ইয়াজুজ মাজুজের নাগাফ ও করোনা ভাইরাস!!

Spread the love

চলমান বিশ্বের আতংকের নাম নোবেল করোনা ভাইরাস বা Covid-19। চীনের উহান থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে শুর হয়ে ইতিমধ্যে ইতালি, স্পেন কে মৃত্যুপূরি বানিয়ে নিয়েছে। প্রতিদিন সেখানে হাজার হাজার লাশের মিছিল। পরমাণু শক্তিধর আমেরিকা করোনার আঘাতে নাকাল। এখন পর্যন্ত সেখানে ৬ লাখ করোনা রোগী। মৃত্যু সর্বচ্চ ২৬ হাজার। ২-৫ লাখের বেশি আমেরিকান মারা যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে!
এ পর্যন্ত দুইশর বেশি দেশে এই করোনা ভাইরাস মহামারি রুপ ধারণ করেছে। আজ পর্যন্ত ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে।

পৃথিবী আজ স্তব্ধ! সবখানে লাশের মিছিল! মেডিকেল বিজ্ঞানীরা এর প্রতিষেধক তৈরিতে হিমশিম খাচ্ছে।রোগতত্ব বিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী এরই মধ্যে ৩৪০ বারের বেশি জিন পরিবর্তন করেছ এই ভাইরাস।ফলে এখনো এর প্রতিষেধক তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

অনেকেই অভিযোগ করেন চীন Covid-19 নামের এই ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছে। তবে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে যে পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি ও মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে তাতে বুঝা যায় যে; এই ভাইরাস তারা ইচ্ছে করে ছড়ায়নি। তবে তাদের দেশ থেকে অনিচ্ছায় ছড়িয়ে গেছে পৃথিবীময়।

বিবিসি ইংরেজি অনলাইন ভাৰ্সনের গত ২৬/৩/২০২০ তারিখের Pangolins carry virus related to Covid-19 বা করোনা ভাইরাস সম্পর্কীয় প্রতিবেদন থেকে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। চাইনিজ জনগণ বণ্যপ্রাণী ভক্ষণ করে। মালায় প্যানগুলিন(Pangolin) প্রাণীর গোশত সুস্বাদু খাবার হিসেবে তারা গ্ৰহন করে।

এই প্যানগুলিন প্রাণীতে Covid-19 বা করোনা ভাইরাস সম্পর্কীয় পদাৰ্থ রয়েছে।সেখান থেকে মানব দেহে সংক্রমিত হয়ে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়েছে।

এই প্রতিবেদনে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক Dr. Dan Challender বলেন, Pangolins are known to host Virus Strains of CoronaVirus.বা প্যানগুলিন প্রাণীতে করোনা ভাইরাস রয়েছে।

Zoological Society of London(ZSL)এর গবেষক Pro. Andrew Cunningham এর মতে,
{The source of the detected CoronaVirus really is unknown _ it might have been a natural Pangolin Virus or have jumped from another species between Capture and death.}

অর্থাৎঃ করোনা ভাইরাসের প্রকৃত কারণ এখনো অস্পষ্ট।হয়তো এটি natural Pangolin Virus অথবা অন্য কোন প্রাণীর ভাইরাস হতে পারে। সেই প্ৰাণীর সংস্পর্শে অথবা, মৃত্যুর কারণে সংক্রমিত হয়েছে।

তবে কোন বিজ্ঞানী বিড়াল আবার কেউ বণরুই থেকে এই প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমনের দাবি করে যাচ্ছেন।সুতরাং এই ভাইরাসের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনো অতলজলে।

বিজ্ঞানীদের মতামত থেকে একথা স্পষ্ট যে, মানব ঘাতী করোনা ভাইরাস বিষাক্ত Pangolin অথবা অন্য কোন বণ্যপ্রাণী থেকে মানব দেহে সংক্রমিত হয়ে পৃথিবীতে বিষ ছড়াচ্ছে। তাই আগামী প্রজন্ম কে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এই মূহুৰ্তে বণ্যপ্রাণী ভক্ষণ নিবারণ বিষয়ক কঠোর আইন করার দাবী জানাচ্ছেন অনেক বিজ্ঞানী।

প্রাণী ও রোগতত্ত্ব বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রানীদেহ থেকে ভাইরাস মানব দেহে সংক্রমিত হয়।এরপর মানব জাতির বিনাশ করছে। এই তত্ত্ব (theory)ও তথ্য (information) গুলোকে বিশ্বের সেরা মেডিকেল বিজ্ঞানী মুহাম্মদ(সা:) প্ৰদত্ত থিওরির সাথে কতটুকু মিল তা আলোকপাত করব।

এই বিষয়টি বুঝার জন্য প্রথমে রাসুল(সা:) এর দুইটি বৈজ্ঞানিক হাদিস নিয়ে পর্যালোচনা করব।
“কুকুরের ভাইরাস”
————
১_তিনি(সা:) বলেন;
عن أبي هريرة “رضي الله عنه” قال قال رسول الله “صلى الله عليه وسلم” طهور إناء احدكم اذا ولغ فيه الكلب ان يغسله سبع مرات أولاهن بالتراب.رواه مسلم، ٥٣٨.٥٣٥،٥٣٦،٥٣٧،٥٣٩،٥٤٠،

অর্থাৎঃ হযরত আবু হুরাইরা(রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন; রাসুলুল্লাহ(সা:) এরশাদ করেন; তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে সে পাত্রকে সাত বার পানি দিয়ে ধৌত করলে পবিত্র হবে।সর্বপ্রথম মাটি দ্বারা ঘষে নিতে হবে। {(মুসলিম-৫৩৮, ৫৩৫,৫৩৬, ৫৩৭,৫৩৯,৫৪০) (তিরমিযি-৯১)(আবু দাউদ-৭১)}

মূল কথা হল ,কুকুর কোন পাত্রে মুখ দিলে সেই পাত্র প্রথমে মাটি দিয়ে ঘষে সাতবার পানি দিয়ে ধৌত করে পরিষ্কার করতে হবে। অন্যদিকে শূকর মুখ দিলে কেবল তিনবার পানি দিয়ে ধৌত করে পবিত্র হয়ে যায়।হাদিসে কুকুর ও শূকরের ক্ষেত্রে পবিত্রতা অর্জনে ভিন্ন ধরণের নির্দেশনা রয়েছে।

আবু দাউদ শরিফের শরহ উর্দু ভাষায় রচিত”ক্বালা আবু দাউদ”গ্রন্থের লেখক উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় একটি চমকপ্রদ ও লোমহর্ষক ঘটনার উদ্ধৃত করেন।

তিনি লেখেন; ১৪০০ শতাব্দীর মার্কিন বিশেষজ্ঞ এক ডাক্তার কুকুর পাত্ৰে মুখ দিলে মাটি দিয়ে ঘষা আর শূকরের ক্ষেত্রে না ঘষার নির্দেশ কেন; সে বিষয়ে কুকুর ও শূকরের উপর গবেষণা করেন। দীর্ঘ ৫০ বছর গবেষনার পর তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, কুকুরের লালায় এক ধরণের ক্ষতিকর জীবাণুর (Virus)অস্তিত্ব রয়েছে। শূকরের লালায় জীবাণুর অস্তিত্ব নাই।
মাটি দিয়ে সে পাত্ৰ ঘষে নিলে ক্ষতিকর সে ভাইরাস বিদুরিত হয়। মাটি হল জীবাণু প্রতিষেধক বা anti-virus।অন্যথায় মানুষ সেই পাত্রে হাত দিলে কুকুরের মুখের লালার ভাইরাস পাত্র থেকে মানব দেহে সংক্রমিত হয়ে ক্ষতি করে। এই কারণে বিশ্বনবী(সা:) কুকুর পাত্রে মুখ দিলে মাটি দিয়ে ঘষার নির্দেশ দেন। শোকরের লালায় জীবাণু নাই তাই মাটি দিয়ে ঘষার নির্দেশ ও নাই। ফলে সেই গবেষক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

তবে ২০০৯-২০১০ সালে মেক্সিকো থেকে H1N1 Virus কিছু দেশে Swine flu নামে সংক্রমিত হয়ে অনেক মানুষ মৃত্যু বরণ করে। এর কারণ ছিল swine( শূকরের)ও bird(পাখির) গোশত ভক্ষণ। অর্থাৎ শূকরের মাংস থেকে জীবাণু মানব দেহে সংক্রমিত হয়েছিল। এর সাথে শূকরের লালার সম্পর্ক ছিলনা।
“নাগাফ ভাইরাস”
———–
২_দাজ্জাল সম্পৰ্কে রাসুল(সা:) এর একটি দীর্ঘ হাদিস তিরমিযি শরিফে বর্ণনা করা হয়। তিনি( সা:)বলেন; ঈসা(আ:) পৃথিবীতে আগমন করে দাজ্জাল কে “লুদ্দ”শহরের প্রান্তে হত্যা করবেন।তারপর আল্লাহ তার কাছে ওহি পাঠাবেন যে; তুমি ও তোমার সাথীরা তুর পাহাড়ের নিরাপদ স্থানে চলে যাও। আমি এখন এমন এক বাহিনী প্রেরণ করব যে বাহিনীর সাথে তোমরা যুদ্ধ করতে সক্ষম হবেনা।তখন ইয়াজুজ-মাজুজের প্রথম দলটি বের হয়ে সিরিয়ার “তিবরিয়া উপসাগর”র সমস্ত পানি পান করে শেষ করে ফেলবে।

তারা বায়তুল মোকাদ্দাসের পাহাড়ে গিয়ে যাদের পাবে তাদের হত্যা করে মিশন শেষ মনে করে আকাশের দিকে তীর নিক্ষেপ করবে। তারপর রাসুল(সা:) বলেন;
فيرغب نبي الله عيسي وأصحابه ‘ فيرسل الله عليهم النغف في رقابهم فيصبحون فرسي كموت نفس واحد ثم يهبط نبي الله عيسي وأصحابه إلي الأرض.

অর্থাৎ ; অতপর ঈসা(আ:) ও তার সাথীরা আল্লাহ দরবারে দোয়া করবেন। তখন আল্লাহ পাক তাদের(ইয়াজুজ-মাজুজ)ঘাড়ে “নাগাফ”_নামক _কীটের_মহামারি_দিয়ে সবাইকে_ ধ্বংস করে দিবেন। মনে হবে একজন মানুষ মৃত্যু বরণ করেছে। তারপর ঈসা(আ:)ও তার সাথীরা তুর পাহাড় থেকে নেমে আসবেন।
(তিরমিযি- ২২৪০)

ইয়াজুজ-মাজুজ কে যে “নাগাফ”নামক কীটের মহামারি দিয়ে ধ্বংস করা হবে সেই ভাইরাস ছাগল ও উটের নাক দিয়ে সংক্রমিত হবে। করোনা ভাইরাস নাক দিয়ে বেশি সংক্রমিত হয় বলে মাক্স ব্যবহারের প্রতি জোর দেওয়া হচ্ছে।

সুতরা আলোচিত দুই হাদিস হতে প্রমানিত হয় যে আল্লাহ পাক প্রাণীর দেহে ভাইরাস সংক্রমিত করে মানব জাতিকে ক্ষতি ও ধ্বংস করেন। যেমনি প্রতাপশালি ইয়াজুজ-মাজুজ বাহিনী কে ছাগল ও উটের গোশতেৰর ভাইরাস দিয়ে ধ্বংষ করবেন।

মেডিকেল বিজ্ঞানীদের গবেষণা লব্ধ জ্ঞান প্ৰাণীর দেহের ভাইরাস মানব জাতির অবাধ্যতা বা পাপাচারের শাস্তি। এই Covid-19 বা করোনা ভাইরাস আল্লাহ পাকের এই নিয়মের ব্যতিক্ৰম কিছু নয়। আমাদের ক্ষুদ্র দৃষ্টি নিয়ে অনুধাবন করা হয়তো এখন সম্ভব হচ্ছে না। (اللهم امين)

লেখক: আবদুল_মান্নান
{বিএ(সম্মান)এমএ,এমএম,এলএলবি

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x