ঈদুল আযহার আগেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি নিয়মে শতভাগ ঈদ বোনাস চান

Spread the love
  • 2.8K
    Shares

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ২৫ শতাংশ  ঈদ বোনাসের পরিবর্তে সরকারি নিয়মে শতভাগ ঈদ বোনাস প্রদানসহ এই করোনাকালীন সময়ে শিক্ষকদেরকে বিশেষ আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মাত্র ২৫ শতাংশ  ঈদ বোনাস পেয়ে আসছেন। যা দিয়ে শিক্ষকরা ঈদের সময় তাদের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন না। ঈদের সময় তাদের মনে কোন আনন্দ থাকে না।

বিগত ২০০৪ সালের ২২ জানুয়ারি  শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য ২৫ শতাংশ  এবং  কর্মচারীদের জন্য ৫০ শতাংশ ঈদ বোনাস প্রদান করা হলেও দীর্ঘ ১৬ বছরে এর কোন পরিবর্তন নেই। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নামে মাত্র যে ১০০০ টাকা বাড়ি ভাড়া, ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়। যা দিয়ে বর্তমানে কিছুই করা যায় না। ধরা,যাক একজন এমপিওভুক্ত হাই স্কুলের তৃতীয় শ্রেনির কর্মচারীর (দপ্তরী) বেতন স্কেল ৮ হাজার ৫০০ টাকা হলে। তিনি ঈদ বোনাস পাবেন এর অর্ধেক ৪ হাজার ২০০ টাকা। তিনি মনে করেন যে, ঈদ বোনাসের নামে হাস্যকর পরিমান টাকা দেওয়া হয়। আর যা দেওয়া হয় তা দিয়ে এই যুগে পরিবার-পরিজন নিয়ে চার, পাঁচ বা ছয় হাজার টাকায় কীভাবে ঈদ উদযাপন করা সম্ভব? শিক্ষকরা লজ্জায় এই স্বল্প পরিমান বোনাস পাওয়ার কথা কাউকে বলতে পারেন না। সামাজিকতা রক্ষা করে সম্মান নিয়ে চলাই কঠিন।

দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক চাইলে সরকারকে অবশ্যই শতভাগ উৎসব ভাতা দিতেই হবে। জাতীয় শিক্ষানীতিতে ও শিক্ষকদের বৈষম্য কমিয়ে আনার কথা বলা আছে। সরকারি শিক্ষকরা প্রতি তিন বছরে একটি শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পান। বেসরকারি শিক্ষকদের তা ও দেওয়া হয় না। যোগ্যলোকদের শিক্ষকতায় আনার জন্য যোগ্যতর বেতন -ভাতা অবশ্যই শিক্ষকদের দিতে হবে।

বর্তমানে শিক্ষকরা করোনার প্রভাবে গৃহবন্দী। তাদের বেতন ছাড়া অন্য কোন আয়-রোজগার নেই। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মারাত্মক অর্থকষ্টে দিনযাপন করছেন। শিক্ষকদের অর্থকষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রী  ছাড়া আর কাউকে বলতেও পারছেন না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্থকষ্ট আরো প্রকট আকার ধারণ করবে এবং শিক্ষাও ধ্বংসের মুখোমুখি হবে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আসন্ন ঈদুল আযহার পরে বা সেপ্টেম্বরের দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সীমিত আকারে ক্লাস চালু করা যায় কিনা সে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি ।

অবিলম্বে শিক্ষকদের দুঃখ, কষ্টের কথা চিন্তা করে,আসন্ন ঈদুল আযহার পূর্বেই ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাসের পরিবর্তে সরকারি নিয়মে শতভাগ ঈদ বোনাস প্রদানসহ শিক্ষকদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।

লেখক

শিক্ষক ও কলামিস্টঃ

  মোঃ আজাদ (গনসংযোগ বিষয়ক সচিব)।

  বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (কেন্দ্রীয় কমিটি) নজরুল।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x