করোনাঃ ছেলেরা ঘর থেকে বের করে দিল বৃদ্ধা মাকে

Spread the love

আল-আমিন,সুনামগঞ্জঃ
করোনা সন্দেহে বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন ছেলেরা। সুনামগঞ্জে অন্য জেলা থেকে আসা গামের্ন্টস কর্মীর বাড়িতে যাওয়ায়ফলে গত দুইদিন ধরে ঘরের বাইরে ঘুরে ঘুরে খাবার সংগ্রহ করে জীবন পার করছেন অমত্য বালা দাস (৯০) নামে ওই বৃদ্ধা।

ছেলেদের দাবি- করোনার মহামারির মধ্যে অন্য জেলা থেকে আসা মানুষের বাড়িতে যাওয়ার শাস্তি স্বরূপ তাকে বাড়ি বের করে দেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাল্লা উপজেলার হাবিবপুর ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা অমত্য বালা দাস। দুই ছেলের জন্মের পর স্বামীকে হারান তিনি। দুই ছেলে জুগেশ দাশ ও রণধীর দাশকে কষ্ট করে মানুষ করেন। দুই ছেলে কৃষি কাজ করলেও তাদের পারিবারিক অবস্থা ভালো। দেশের অন্য জেলা থেকে শাল্লায় আসা গামেন্টর্স কর্মীর বাড়িতে যাওয়ায় প্রতিবেশীদের কথায় মাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন দুই ছেলে।

বৃদ্ধ অমত্য বাল দাশ বলেন, আমার কোনো করোনা নাই বাবা। আমি কারও বাড়িতেও যাই নাই। আমি বুড়া মানুষ হাঁটতে বের হইছিলাম। পরে ঘরে গেলে ছেলেরা আমারে মিথ্যা অপবাদ দিয়া ঘর থাকি বাহির করিয়া দিসে। গাঁওয়ের কেউ আমারে জায়গা দেয় না, খাওন দেয় না। তারা সবাই কয় আমি নাকি করোনা রোগী। এখন আমার ছেলেরা জায়গা দেয় না, বউরা খাওন দেয় না। গেলেই বলে তুমি দোষী ঘরে আইও না। এখন এক সবজি ব্যবসায়ী আমাকে একটা বেগুন দিলেও চাল কেউ দেয় নাই।

ওই নারীর দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে জুগেশ দাসের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, অন্য জেলা থেকে গ্রামে আসা গামের্ন্টস কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার কারণে মাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। তিনি তার শাস্তি ভোগ করছেন।

শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-মুক্তাদির হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবগত করেছি। তিনি এখন ওই নারীর কাছে গিয়ে বিষয়টি দেখবেন। যদি বিষয়টি সত্যি হয় তাহলে আমরা ছেলেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x