কর্মক্ষম নারীর হাত ভেঙ্গে অচল করে দেওয়া হয়েছে, ৪ সদস্যের জীবন কাটছে কষ্টে

Spread the love
  • 7
    Shares

শামীম খানঃ

মাদকাসক্ত স্বামীর সঙ্গে সংসার হয়নি সংসার সংগ্রামী নারী পলির। দুই মেয়ে নিয়ে বাবার বাড়িতে ছিল তার সংসার। বেচেঁ থাকার সংগ্রামে সম্বল একটি সেলাই মেশিন। যা চালিয়ে অর্থ উপার্যন করে মেয়েদের বড় করে তুলেছেন। বড় মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন, ছোট মেয়ের বর্তমানে পড়ালেখা করছে। বিউটি খাতুন ওরফে পলি (৪০) ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নস্তি গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের কন্যা।

পলি জানান, সামান্য জমি নিয়ে বিরোধে তার ভায়েরা পিটিয়ে একটি হাত ভেঙ্গে দিয়েছে। আঘাত করেছে বৃদ্ধা মাকেও। প্রায় দুই মাস হতে চললো ভাঙ্গা হাত নিয়ে ঘরে বসে আছেন তিনি। সেলাই মেশিনটি চালাতে পারছেন না। এতে বন্ধ হয়ে গেছে তার উপার্যন। এই অবস্থায় পরিবারের অন্যদের নিয়ে কষ্টেই কাটছে তার দিনগুলো।

পলি জানান, তারা ভাই আর তিন বোন। তাদের একবোন মারা গেছেন। তার ভাষায় অল্প বয়সে পরিবারের পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা শহরের ঈদগাহপাড়ার নাসিম উদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে দেন। বিয়ের পরপরই তার বড় মেয়ে বৃষ্টি (২৩) এর জন্ম হয়। এর কিছুদিনের মধ্যে বুঝতে পারেন তার স্বামী মাদকাসক্ত। ঠিকমতো কাজ না করাই সংসার চালাতে পারেন না। ছোট ছোট বিষয়ে প্রায়ই গোলমাল হতো। এই অবস্থায় তিনি বড় মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পলি আরো জানান, বাবার বাড়ি কিছুদিন থাকার পর তার স্বামী মাঝে মধ্যে বেড়াতে আসতেন। এটা পরিবারে অন্যরা ভালো ভাবে নেয়নি। কিন্তু তিনি চেষ্টা করেছেন স্বামীকে ভালোবেসে ভালো পথে নিয়ে আসার। কিন্তু পারেননি। এদিকে বাবার বাড়িতে থাকা অবস্থায় তার ছোট মেয়ে খুশি (১৫) গর্ভে আসে। তার গর্ভের বয়স যখন মাস তখন স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান, আর ফেরেনি। খোজ নিয়ে জানতে পেরেছেন আরেকটি বিয়ে করে সংসার করছেন। এই খবর পেয়ে তিনিও স্বামীর বাড়িতে যাননি।

পলি জানান, বাবা বাড়িতে কষ্ট করে জীবন কাটিয়েছেন। মাটির মেঝে আর টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা দুই কক্ষের একটি ঘরে তারা জন বসবাস করেন। তিনি জানান, তার আরেক বোন জলি বছর পূর্বে মারা যান। সময় মেয়ে বৈশাখী (১৬), ছেলে তৌফিককে (১১) রেখে যান। বর্তমানে তার সেই মেয়ে দশম শ্রেণী আর ছেলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ালেখা করছে। বোনোর এই দুই সন্তান আর তার দুই সন্তানকে নিয়েই ছিল তার সংসার। যা একটি সেলাই মেশিনের উপার্যনে বেঁচে আছে। পলি জানান, সংসার চালাতে যখন হিমসিম খাচ্ছিলেন তখন একটি সেলাই মেশিন ক্রয় করেন। এই মেশিনে কাজ করেই সবার মুখে খাবার তুলে দেন। কিন্তু তার ভায়েরা পিটিয়ে বাম হাতটি ভেঙ্গে দেওয়ায় এখন কাজ করতে পারছেন না।

পলি মা সাধীনা বেগম জানান, মেয়ে হলেও সে বাবার বাড়িতে জমি পাবেন, কিন্তু তার ছেলেরা দিতে চান না। সব নিয়ে প্রায়ই গোলমাল হয়। গত ১৮ এপ্রিল একটি জমি থেকে ঘাষ কাটা নিয়ে গোলমালে তার দুই ছেলে তাকে মেয়ে পলিকে পিটিয়ে আহত করেছে। ছেলেরা তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে। আর তার মেয়ের হাতটি পিটিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে। এখন মেয়ে কাজ করতে না পারাই অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। মেয়ে পলি জানান, তার এই ভাঙ্গা হাতের চিকিৎসায় ইতিমধ্যে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এই টাকা গ্রামের মানুষ সহায্য করেছেন। এখন বেচেঁ থাকার জন্য বাড়ির জমিতে থাকা কিছু গাছ বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু ভায়েরা সেগুলো কাটতে দিচ্ছে না। ফলে না খেয়ে কষ্ট করে দিন কাটাতে হচ্ছে। তিনি ভায়েদের নামে মামলা করেছিলেন। পুলিশ তাদের আটক করলেও আদালত থেকে জামিন নিয়ে বাড়িতে এসে নানা ভাবে হুমকী দিচ্ছেন।

বিষয়ে ভাইদের একজন মফিজুর রহমান জানান, বিপদের দিনে তিনি বোন পলিকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু বাড়ির পাশে ঘাষপালা, শাকসবজি নিয়ে বিরোধ তৈরী হয়েছে। আর এনিয়ে তার বোন বোনের পক্ষ নিয়ে মা তাদের সঙ্গে প্রায়ই গোলমাল করে। ঘটনার দিন ঝগড়ার এক পর্যায়ে মারামারি হয়েছে। এতে তার বোনের হাত ভেঙ্গেছে। আর মাকে তারা মারেননি দাবি করে বলেন, ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে গিয়ে আঘাত পেতে পারেন। জন্য তাদের নামে মামলা করা হয়েছে। তারা আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন বলে জানান।

ব্যাপারে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোর্শেদ হোসেন খান জানান, ঘটনায় মামলা হয়েছে। তারা আসামীও আটক করেছেন। এখন জামিনে এসে হুমকী দিচ্ছে এমন খবর পাননি। এমন কোনো ঘটনা থাকলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x