কুড়িগ্রামে আগাম ইরি-বোরো বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক

  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম জেলার শস্য ভান্ডার খ্যাত ভূর“ঙ্গামারী উপজেলার কৃষকরা আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমের ধান চাষের জন্য বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউবা ট্রাক্টর দিয়ে আবার অনেকেই প্রয়োজনের তাগিদে গরু দিয়ে হাল চাষ করে বীজতলার জমি তৈরি করছেন। জমির আগাছা পরিস্কার, কাঁদা মাটি দিয়ে ক্ষেতের আইল বাঁধা, কোদাল দিয়ে জমির উচু নীচু সমান করা, জমিতে পানি দেওয়াসহ নানা কাজে এখন ব্যস্ত কৃষক। বসে অলস সময় কাটানোর মতো সময় তাদের হাতে নেই।
ভূর“ঙ্গামারীতে চার দফা বন্যায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতি  পুষিয়ে নিতে কৃষক ইরি-বোরো ধান চাষের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বীজ তলা তৈরিতে দারুন ব্যস্ত ।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে হরেক রকম হাইব্রীড জাতের বোরো ধান বীজ বিক্রি হচ্ছে। যে কারণে কৃষকদের ভীড়ে দোকানগুলোতে বেচা কেনা বেড়েছে । বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক বোরো ধানের বিভিন্ন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্য থেকে বর্তমানে ব্রী ২৮,ব্রী ২৯, স্বর্ণা, গুটি স্বর্ণা সহ বিভিন্ন জাতের ধান বীজ কিনছেন কৃষক। কৃষকরা বলছেন, এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বীজতলা তৈরিতে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

উপজেলার পাইকের ছড়া ইউনিয়নের গছি ডাঙ্গা গ্রামের কৃষক এরশাদ বলেন, ৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করার জন্য বীজতলা তৈরি করছেন। ভাল ফসল পাবার আশায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পশ্চিম ছাট গোপালপুর গ্রামের কৃষক আসাদুল ও আইনাল বলেন, তারা পৃথকভাবে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে বোরো মৌসুমে বোরো ধান চাষ করেন, এবারো তারা বোরো ধানের জন্য বীজতলায় বীজ বপনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বীজ তলায় ভাল বোরো চারা হবে বলে আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১৫ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর জন্য ৭৬২ হেক্টর জমিতে বোরো বীজ তলার লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আদর্শ বীজতলা তৈরিতে কৃষককে নানা ভাবে সহযোগিতা ও বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষক ভালো ফলন পাবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x