কুড়িগ্রামে নমুনা পরীক্ষায় ৫৬ শতাংশই করোনা আক্রান্ত

Spread the love
  • 1
    Share

হাফিজুর রহমান হৃদয়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রাম জেলায়  করোনার নমুনা পরীক্ষায় ৫৬ শতাংশই করোনা পজেটিভ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন অফিস। সূত্র জানায়, প্রায় ২১ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ১০ শতাংশ এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। সংখ্যা হিসেবে যা প্রায় ২ লক্ষাধিক। সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ছাড়াই মানুষজন আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে সমগ্র জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি। চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে এমন মতামত পাওয়া গেছে।

একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, কেউ নমুনা পরীক্ষা করে ফলাফল পজিটিভ হলে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আবার কেউ উপসর্গ দেখে চিকিৎসা নিচ্ছেন, বাড়িতে থেকে। শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এ জেলায় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৬ জন। ২৯ জুলাই বুধবার পর্যন্ত এ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭০ জনে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ২৪৬ জন বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন। তিনি আরও জানান

কুড়িগ্রাম আড়াইশ’ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত পরামর্শক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মইনুদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনা রোগী এখন কুড়িগ্রাম জেলার অনেক বাড়িতেই। এই ভাইরাস সমগ্র জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি প্রতিদিন ৩০ জন করে রোগী দেখে থাকেন। এর মধ্যে ৫ থেকে ৬ জন রোগী করোনা উপসর্গ নিয়ে আসেন। তাদের পরীক্ষা করে করোনা পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে।

কুড়িগ্রাম বক্ষব্যাধি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, করোনাভাইরাস এখন জেলায় সর্বোচ্চ সংক্রমণ ঘটাচ্ছে বলে তিনি ধারণা করছেন। তার চেম্বারে তিনি প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন রোগী দেখে থাকেন। তার মধ্যে ৫ থেকে ৭ জন রোগী করোনার উপসর্গ নিয়ে আসেন। যাদের কোনো করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসার ইতিহাস নাই। ভাইরাসটির এ জেলায় এখন গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে বলেও তিনি মত দেন।

সাবেক সিভিল সার্জন ও কুড়িগ্রামের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, পৌরসভা ও উপজেলা সদরে এই ভাইরাসটি এখন প্রায় বাড়িতে হানা দিয়েছে। তিনি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী দেখে থাকেন। তার মধ্যে ৫/৬ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে আসেন। অনেকে এখন টেস্ট করাতে চান না। এ কারণে ভাইরাসটি জেলায় ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন মো. হাবিবুর রহমান জানান, কুড়িগ্রাম জেলা থেকে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৩৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়। এর মধ্য থেকে প্রতিদিন ২৫ জনের ফলাফল পাওয়া যায়। এই ২৫ জনের মধ্যে ১৩ থেকে ১৫ জনের নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসে। সর্বশেষ গতকাল বুধবার নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছিলো ৩১ জনের এবং নতুন করে ফলাফল আসে ২৫ জনের। এদের মধ্যে ১৬ জনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে এবং সুস্থ হয় ৭ জন।

তিনি আরও বলেন, ভাইরাসটি এখন কুড়িগ্রামে বেশি ছড়াচ্ছে।

সিভিল সার্জন অফিসের পাওয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা গড়ে ১৪ জন ধরে নিলে, তা প্রাপ্ত ফলাফলের ৫৬ শতাংশে দাঁড়ায়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x