জাল সনদধারী প্রভাষকের এমপিও বাতিল হচ্ছে, ফাঁসছেন অধ্যক্ষও

  • 38
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

উৎস ডেস্কঃ

চাপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ঝাউবন মডেল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলার প্রভাষক হিসেবে
জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জমা দিয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন মো. আফজাল হোসেন।
তার প্রভাষক পদে চাকরি বাগানোর বিষয়টি তদন্তে জাল সনদের প্রমাণিত হয়েছে। একই সাথে তার সনদটি জাল বলে নিশ্চিত করেছে এনটিআরসিএ। তাই জাল সনদধারী প্রভাষকের এমপিও বাতিল করা উদ্যোগ নিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সাথে জাল সনদধারী শিক্ষককে নিয়োগ ও তার এমপিও আবেদন অগ্রায়ণ করে ফেঁসেছেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেনও। এ অভিযোগে অধ্যক্ষের এমপিও স্থগিত করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে জাল সনদধারী প্রভাষক মো. আফজাল হোসেন ও অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেনকে শোকজ করা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চাপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ঝাউবন মডেল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তিনজন শিক্ষক বেতনভাতা পাওয়ার আবেদনসহ প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ জমা দেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ পদে দায়িত্বভার নিয়েও কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। এ জটিলতা নিরসন ও অভিযোগ তদন্ত করতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে বাংলার প্রভাষক মো. আফজাল হোসেনে জাল নিবন্ধন সনদের বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদনে প্রভাষক মো. আফজাল হোসেনের নিবন্ধন সনদ জাল বলে প্রমাণিত হলে তার এমপিও বাতিল ও জাল নিবন্ধন সনদে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির সুপারিশ করায় নিয়োগকালীন অধ্যক্ষের বিরুব্দে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।

এর আগে একটি তদন্ত প্রতিবেদনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষের দেয়া এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঝাউবন মডেল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলার প্রভাষক মো. আফজাল হোসেন নিবন্ধন সনদ দেখাতে পারেননি। এতে সন্দেহ হওয়ায় ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ২ ডিসেম্বর কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক চিঠিতে তার সনদটি যাচাই করতে বলা হয় এনটিআরসিএকে।

সনদ যাচাই প্রতিবেদনে মো. আফজাল হোসেনের সনদটি জাল বলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানায় এনটিআরসিএ। তাই তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুসারে প্রভাষকের এমপিও বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র। একই সাথে নিয়োগকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে তারা এমপিও স্থগিত করা হচ্ছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x