জীবাণুনাশক ‘পুশ’ করার পরামর্শ দিয়ে বিপাকে ট্রাম্প

Spread the love

এটি অবিবেচনাপ্রসূত পরামর্শ মারাত্মক বিপজ্জনকবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ছাড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র : করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ফুসফুস পরিষ্কার করতে ইনজেকশন বা অন্য কোনোভাবে ফুসফুসে জীবাণুনাশক ‘পুশ’ করার পরামর্শ দিয়ে বিপাকে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান বিল ব্রায়ানের একটি গবেষণা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ পরামর্শ দেন তিনি। সংবাদসূত্র : এনবিসি, বিবিসি গবেষক ব্রায়ানের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ধারণা করছি, আমরা অতিবেগুনী রশ্মি বা শুধু সাধারণ আলোই শরীরে প্রচন্ডভাবে আঘাত করাই। মনে হয় আপনি বলেছেন, এটা এখনো পরীক্ষা করা হয়নি। তাহলে আমি বলব, ধরুন আপনি আলোটাকে শরীরে প্রবেশ করালেন; সেটা করতে পারেন চামড়া ভেদ করে বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে। মনে হয় বলেছেন, আপনারা এটাও পরীক্ষা করবেন।’ ট্রাম্প বলেন, ‘আমি দেখেছি, জীবাণুনাশক মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই এটি (ভাইরাস) পরাস্ত করতে পারে। তাহলে এমন কি কোনো পদ্ধতি আছে, (রোগীর) শরীরে এটি প্রবেশ করিয়ে পরিষ্কার করা যায়? আপনারা দেখতেই পারছেন, এটা (ভাইরাস) ফুসফুসে গেলে কতটা বেড়ে যায়। সুতরাং এভাবে পরীক্ষা মজাদার হতে পারে।’ তবে করোনা নির্মূলে ফুসফুসে জীবাণুনাশক প্রবেশ করানো বিষয়ে ট্রাম্পের মতামতের ঘোরবিরোধী বিশেষজ্ঞরা। ফুসফুসের রোগ বিশেষজ্ঞ (পালমোনোলজিস্ট) ডা. ভিন গুপ্ত বলেন, ‘শরীরে জীবাণুনাশক বা যেকোনো ধরনের পরিষ্কারক বস্তু প্রবেশ করানো একেবারেই অবিবেচনাপ্রসূত পরামর্শ ও মারাত্মক বিপজ্জনক। নিজেকে মেরে ফেলার ক্ষেত্রে এটা খুবই সাধারণ নিয়ম।’ এদিকে, শরীরে জীবাণুনাশক ঢুকিয়ে অথবা অতিবেগুনী রশ্মি প্রয়োগ করে করোনাভাইরাস ধ্বংস করার উপায় বাতলে দিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিকিৎসকরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই পরামর্শের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এটা একেবারেই ভ্রান্ত ধারণা এবং মেডিকেল শাস্ত্র কখনই এ ধরনের পরামর্শ সমর্থন করে না। জীবাণুনাশক করোনাভাইরাসকে মেরে ফেলতে পারে। তবে এটি শুধু যেসব পণ্য মানুষ স্পর্শ করে, সেগুলোতে ‘অ্যান্টি মাইক্রোবায়াল প্রোপার্টিজ’ ব্যবহার করে সেসব পণ্যকে ভাইরাসমুক্ত করার জন্য ভালো ধারণা। বেশ কিছু গবেষণা আছে, সাধারণভাবে সূর্যের আলোতে সরাসরি এলে কিছু ভাইরাস দ্রম্নত মারা যেতে পারে। কিন্তু করোনাভাইরাসকে মেরে ফেলার জন্য অতিবেগুনী রশ্মি কতক্ষণ প্রয়োগ করতে হবে, সে ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। যে কারণে চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচার অন্যতম উপায় হাত, শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গ ঘনঘন পরিষ্কার করা এবং মুখ, চোখ, নাক স্পর্শ না করা। এই ভাইরাস সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বেরিয়ে আসা কণা শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করে। শরীরে প্রবেশের পরপরই এটি বংশ বৃদ্ধি করে এবং দ্রম্নত গতিতে বিস্তার ঘটাতে থাকে। সেখান থেকে ফুসফুসের মধ্যে সংক্রমণ ঘটায়। চিকিৎসকরা বলছেন, এই ভাইরাসকে শরীরের ভেতরে ধ্বংস করতে ট্রাম্প জীবাণুনাশক পুশ করার যে পরামর্শ দিয়েছেন; তাতে মানুষের মৃতু্যর ঝুঁকি বাড়বে। এমনকি জীবাণুনাশক পুশ করা হলেও তা ভাইরাস পর্যন্ত পৌঁছাবে না। ‘ব্যর্থ’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র :পম্পেও এদিকে, করোনাভাইরাস মহামারি রোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে না পারার অভিযোগে সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় (ডবিস্নউএইচও) অর্থ জোগান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এবার এ বিষয়ে আরও কঠিন বার্তা দিলেন তার বিশ্বস্ত অনুচর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আর কখনোই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় অর্থ দান করা উচিত হবে না। এমনকি তারা সংস্থাটি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি একটি টিভি অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন পম্পেও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্ধবার্ষিক বাজেট প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের। মহামারির মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এর পরিমাণ আরও বাড়ে। গত বছর তাদের ৪০ লাখ ডলার দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, যা সংস্থাটির মোট বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশ। সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে মাইক পম্পেও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আর কখনোই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় মার্কিন করদাতাদের অর্থ যাওয়ার দায় নাও নিতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের আরও বড় পরিবর্তন দরকার হতে পারে।’

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x