ঝিনাইদহে একাধিক স্বামীর তালাক প্রাপ্ত বহুরূপী নারী তানজিলা খাতুন ও তার মায়ের হাত থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহে একাধিক স্বামীর তালাক প্রাপ্ত বহুরূপী নারী তানজিলা খাতুন (২০) ও তার মা রুলী বেগমের অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। শনিবার ( ২৬ ডিসেম্বর) সকালে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ভুক্ত ভোগী মোছাঃ ফাতেমা খাতুন এ সংবাদ সম্মেলন করেন। ফাতেমা খাতুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাহেব নগর গ্রামের মোঃ আলী আহম্মেদের স্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমা খাতুন তার ছেলে রাসেল আহম্মেদের স্ত্রী তানজিলা খাতুন ও শাশুড়ি রুলী বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে লিখিত বক্তব্যে প্রেস করেন। তিনি বলেন, আমার ছেলে রাসেল আহম্মেদ বহুরূপী তানজিলা খাতুন ও তার মা রুলী বেগমের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তানজিলার প্রেমে পড়ে এবং তাকে বিবাহ করতে বাধ্য হয়। এই বহুরূপী তানজিলা খাতুনের আরও দুই বার বিবাহ হয়। রাসেল তার তৃতীয় স্বামী।

ফাতেমা খাতুন বলেন, তানজিলার প্রথম স্বামী সদর উপজেলার বাদপুকুরিয়া গ্রামের জসিমের ছেলে আশরাফুল ইসলাম। ওখানে সংসার চলাকালীন দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে সে ঐ স্বামীকে তালাক দেয় এবং বিবাহে ধার্যকৃত ২লক্ষ  টাকা দেনমোহর আদাই করেন। দ্বিতীয় স্বামী জেলার হরিনাকুন্তু থানার ঘোড়াগাছা গ্রামের সুলতানুজ্জামানের ছেলে আল- আমিন। এদের কাছ থেকেও বিবাহের দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে তাকে তালাক দিয়ে একই কায়দায় ৩ ল¶ টাকা দেন মহর আদায় করেন।

ফাতেমা খাতুন আরও বলেন, ৩য় স্বামী হিসাবে আমার ছেলে রাসেল আহম্মেদের সাথে গ্রামের কুচক্রি মতি ও তার সঙ্গিদের সাথে যোগ সাজস করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে তানজিলার বিয়ে হয়। তিনি বলেন, আমার ছেলে যেহেতু তানজিলাকে বিয়ে করে সেহেতু আমরা প্রত্যেকেই এই বিয়ে মেনে নিয়ে পুত্র বধুকে ঘরে তুলে নিই। তিনি বলেন, বিবাহের প্রথম সপ্তাহেই এই বহুরূপী নারী তানজিলা আমার ছেলের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। ছেলেকে বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বিভিন্ন বয় ফ্রেন্ডের সাথে মোবাইলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে। এ বিষয় নিয়ে কথা বললে বিভিন্ন ভাবে প্রান নাসের হুমকি দেয় এবং বলে যে, তোমার মতস্বামীকে নিয়ে আমি কি সারা জীবন সংসার করবো ? এই সমস্ত কথা সোনার পর আমার পরিবার ও আমার ছেলে অনেক সহ্য করে গত চার মাস সংসার করে। তিনি মনে করেন তানজিলা তার নিজের ভুল বুঝে ভালো ভাবে সংসারে মন দিবে। কিন্তু তা তো হইনি বরং তানজিলা ও তার মা রুলী বেগম মিলে কৌশলে তার বাড়ীতে ডেকে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন সহ মার ধর করে।

এরপর রাসেলের এই নির্যাতনের কাহিনী শুনে আমার পরিবার সহ্য করতে না পেরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তানজিলাকে ১ ডিসেম্বর ২০২০ তালাক দেওয়া হয়। এরই পরিপে¶িতে তাঞ্জিলার মা বাদী হয়ে আমার পরিবারের ৫ জনকে আসামী করে মামালা দায়ের করে। যার ফলে আমার ছেলে রাসেল বর্তমানে জেল হাজতে আছে।

এই বহু রুপি তানজিলা ও তার মা রুলী বেগমের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে এবং ঘটনার সঠিক তদন্ত করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে তানজিলা ও তার মা রুলী বেগমের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করেন রাসেলের মা ফাতেমা বেগম।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x