ঝিনাইদহে পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা কেএম আব্দুল বাকী’র এ কি কান্ড; দেখার কি কেউ নেই!

Spread the love
  • 4
    Shares

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারী পাড়া জোড়া পুকুর রোডে অবস্থিত জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় অফিসের বেহাল দশা। যেন দেখার কেউ নেই। অফিসে অনিয়মতান্ত্রিক সেবা প্রদানের অভিযোগে সেবা প্রত্যাশীর দেওয়া তথ্য উদ্ঘাটন করতে সরে জমিনে জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার অফিসে যেয়ে দেখা যায় আরেক তান্ডব।

একটি প্রধান সরকারী অফিস এভাবে চলতে পারে কোনমতেই তা মেনে নিতে অ¯^ীকৃতি জানান সেবা প্রত্যাশীগনেরা। কয়েকজন কৃষকের অভিযোগ তারা অফিস থেকে বিজ পাচ্ছে তবে তাদেরকে কীটনাশক দেওয়া হচ্ছেনা, আবার কীটনাশক দিলে বিজ দেওয়া হচ্ছেনা। এ অভিযোগের সত্যতা ও নিয়ম সম্পর্কে জানতে গিয়ে অফিসের গেটে এক ঘন্টা যাবত দাঁড়িয়ে নক করেও গেট খুলাতে স¶ম হয়নি সাংবাদিকরা।

অবশেষে গেটে লেখা মোবাইল নাম্বারে ফোন করেও অপর পাশ থেকে রিসিভ করেনি কেউ। উপায় অন্ত না পেয়ে ফিরে আসার সময় গেট খোলার শব্দ হয়। এসময় সাংবাদিকরা অফিসের দিকে ফিরে আসলে, ভিতর থেকে লুঙ্গী পরা অবস্থায় একজন এসে কথা বলেন। তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। অফিসে লুঙ্গি পরা অবস্থায় একজন প্রধান কর্মকর্তাকে দেখে বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করা হয় অফিস আজ সরকারী ছুটি আছে কিনা তিনি বলেন না। তবে তিনি ছুটিতে আছেন কিনা জানতে চাইলে তাও অ¯^ীকার করেন। লুঙ্গী পরে অফিস করার নিয়ম কি এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে জান।

জেলা পাট উন্নয়ন এই কর্মকর্তা জনাব কে এম আব্দুল বাকী গত দুই বছর ধরে ঝিনাইদহ জেলাতে কর্মরত আছেন। এখানে একটি অফিসের মধ্যে দুইটি দপ্তরের কাজ চললেও জনবল মাত্র তিনজন। এর মধ্যে তার দপ্তরে তিনি এবং অন্য একজন আউট সোর্সিং হিসাবে উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। মুখ্য পাট পরিদর্শক নামে আরেকটি দপ্তরে মাত্র একজন কর্মকর্তা। সেখানে মোঃ আক্তার হোসেন নামে একজন কর্মকর্তা কাজ করেন তবে তার মূল পোস্টিং যশোর। তিনি বর্তমান কোথায় আছেন জানতে চাইলে অফিসিয়াল কাজে শৈলকুপা আছেন বললেও ফোন দিয়ে তাকে নড়াইল আছে বলে জানা গেছে। জনাব আক্তার হোসেন প্রথমে নড়াইল থাকার কথা ¯^ীকার করলেও পরে তিনি নিজে ফোন করে বলেন, আমি শৈলকুপাতেই ছিলাম এখন নড়াইল যাচ্ছি। কথার মধ্যে শুধু লুকচুরি করে একজন আরেকজনের ¯^চ্ছতা দেখাতে গেলেও যাচায় করে তা পাওয়া যায়নি।

এদিকে পাট কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে বলতে আকস্মিক ২য় কর্মকর্তা লিংকন মন্ডল অফিসে ঢোকেন। তার সাথে কথা বলতে বলতে প্রধান কর্মকর্তা অফিস থেকে না বের হয়েই হঠাৎ প্যান্ট পরে চলে আসেন। অফিসের মধ্যেই চেজœ রহস্য খুঁজে দেয় আরেক দুর্নীতি। সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি মাসের পর মাস হাউস রেন্ট খেয়ে যাচ্ছেন। অফিসের মধ্যে একটি রুম দখল করে তিনি সেখানেই বসবাস করে আসছেন । করে নিয়েছেন রান্না ঘরও।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি গত মে মাস থেকে তিনি অফিসের মধ্যেই বসবাস করে আসছেন। হাউজ রেন্ট নিচ্ছেন আবার সরকারী অফিসেই থাকছেন এটার নিয়ম জানতে চাইলে তিনি অসুস্থতার কথা বলে এড়িয়ে গিয়েছেন। এছাড়াও চাষিদের বিজ দিলে কীটনাশক দেওয়া হচ্ছেনা বা কীটনাশক দিলে বীজ দেওয়া হচ্ছেনা কেন ? এর নিয়ম জানতে চাইলেও তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x