টেকসই উন্নয়ন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজন শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ

Spread the love
  • 13
    Shares
শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। আর শিক্ষক জাতি গড়ার সুমহান কারিগর। শিক্ষক সমাজ শিক্ষিত জাতি তৈরি করে, দেশের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই শিক্ষকদেরকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। আর তা না হলে দেশ পিছিয়ে যেতে বাধ্য। শিক্ষকদের যদি পিছুটান থাকে তাহলে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে না। তাই তাদের প্রাপ্য সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে আর তা না করা গেলে জাতির প্রত্যাশিত উন্নতি ও সমৃদ্ধি ব্যাহত হবে।
জাতির কাংখিত উন্নতির জন্য মেধাবী লোকদেরকে শিক্ষকতা পেশায় আনতে হবে। এই জন্য তাদেরকে যোগ্যতর বেতন-ভাতা অবশ্যই দিতে হবে। এর ব্যতিক্রম ঘটলে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসবে না  আর না আসলে উন্নত জাতি গঠন করা দুঃস্বপ্নই থেকে যাবে। মানুষ গড়ার কারিগর তারা যুগে যুগে সভ্যতা বিনির্মাণে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে নীরবে। অথচ তাদের অর্ন্তভুক্ত রেখে কিভাবে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে তা বলা মুশকিল।
পৃথিবীর অনেক দেশ আছে শিক্ষকদের ভিআইপি মর্যাদা দিয়ে থাকেন। যেমন, জাপানে সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া শিক্ষকদের গ্রেফতার করা যায় না। চীনে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পদ শিক্ষকতা। কোরিয়ায় শিক্ষকরা মন্ত্রীদের সমান সুযোগ পান। ফ্রান্সের আদালতে কেবল শিক্ষকদের চেয়ারে বসতে দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষকদের ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়। কিন্তুু আমাদের দেশে এর উল্টোটি দেখি। যা শিক্ষাক্ষেত্রের জন্য শুভলক্ষন নয়।
সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী মূল বেতনের শতভাগ প্রদান করে, সরকার বেসরকারি এসব স্কুল কলেজের আয় থেকে একটি টাকা ও পায় না। অথচ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র বেতন, ভর্তি ফি, সেশন চার্জ বাবদ বিপুল অর্থ আদায় করে থাকে। শিক্ষকদের দাবি বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে সাধারন মানুষ। অভিভাবকদের আর ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার পেছনে বেশি অর্থ ব্যয় করার দরকার হবে না। জাতীয়করণের ফলে শিক্ষায় বিরাজমান বৈষম্য, বিশৃংখলা দূর হবে। শিক্ষা নিয়ে একশ্রেণির মানুষের বেপরোয়া বাণিজ্য বন্ধ হবে। মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসবে এবং নিশ্চিত হবে শিক্ষার মান।
আর তাই শিক্ষার উন্নতির জন্য, শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য সবার আগে শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করতে হবে। আমাদের দেশে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য আকাশ ছোঁয়া। যেমন, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, ইদ বোনাসের মধ্যে পার্থক্য ব্যাপক। বাড়ি ভাড়া সরকারি শিক্ষকরা পান ৪৫-৬০ শতাংশ আর বেসরকারি শিক্ষকরা তা পায় মাত্র ১০০০ টাকা।
চিকিৎসা ভাতা সরকারি শিক্ষকরা পান ১৫০০ টাকা আর বেসরকারি শিক্ষকরা পায় ৫০০ টাকা। ইদ বোনাস সরকারি শিক্ষকরা পান
১০০ শতাংশ আর বেসরকারি শিক্ষকরা পায় মাত্র ২৫ শতাংশ। যা ১৬ বছরে ও পরিবর্তন হয় নি। টাইম স্কেলের পরিবর্তে ২টি উচ্চতর গ্রেড দেয়ার কথা থাকলে ও এমপিওভুক্তির ১০ বছরের ১ম উচ্চতর গ্রেডটি চলমান আছে আর ১৬ বছরের অর্থাৎ ২য় উচ্চতর গ্রেড দেয়া এখনো শুরু হয় নি। তাই শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শিক্ষকদের ঐচ্ছিক বদলি বা বিভাগীয় বদলি আজ ও চালু হয় নি আর শিক্ষকদের বেতন থেকে কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তন অব্যাহত আছে। তাছাড়া বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য পেনশনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয় নি যা খুবই বেদনাদায়ক। এই দ্বৈত নীতি পৃথিবীর কোথাও আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে এই অবস্থার অবসান না হলে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই এসব জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি। দেশের স্বীকৃতি প্রাপ্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একযোগে জাতীয়করণ করা হলে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।  অভিভাবকদের ছেলেমেয়েরা কম টাকায় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।  এতে বর্তমান সরকারের গ্রহণযোগ্যতা আরো বেড়ে যাবে। মনে রাখতে হবে শিক্ষক সমাজকে ক্ষুধার্ত রেখে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।
        শিক্ষক ও কলামিস্টঃ-
  মোঃ আজাদ (গনসংযোগ বিষয়ক সচিব)।
    বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) কেন্দ্রীয় কমিটি)।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x