ড্রাগনফল চাষ করে বদলে গেছে গ্রামের নাম

ড্রাগনফল চাষ করে বদলে গেছে গ্রামের নাম

সারাদেশ

শামীম খান জনীঃ

১০০টি ড্রাগন ফলের বাগান করে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার একটি গ্রাম এখন ড্রাগন গ্রাম নামে পরিচিতি লাভ করেছে।
মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গ্রামের স্কুল কলেজ পড়ুয়া যুবকরা লেখাপড়ার পাশা পাশি কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে । সাথে তারা নিজেরা আর্থিক ভাবে সাবলম্বি হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, মহেশপুর উপজেলার সব থেকে অবহেলিত গ্রাম হিসাবে ছিলো আজমপুর ইউনিয়নের গৌরিনাথপুর গ্রাম। সে গ্রামের মাটিতে শুধু বাদাম ও আমগাছ ছাড়া কিছুই হতো না । গ্রামের লোকজন বেশিরভাগ ছিলো দিনমুজুর । ঘরবাড়ী ছিলো পাটখড়ির বেড়া ও উপরে টিন। এখন সেই গ্রামের প্রায় সবার দালানবাড়ী তৈরি হচ্ছে।

গৌরিনাথপুর গ্রামে এইচএসসি পাশ করা এক ছাত্র নজরুল ইসলাম তিনি সর্ব প্রথম এই গ্রামে সীমিত পরিসরে পরী¶া মুলক ড্রাগনের চাষ শুরু করে। সেই সময় এতো পরিচিত ছিলো না এই ফল সম্পর্কে। নজরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এক সময় ড্রাগনফল বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো এই ফলে প্রচুর পরিমানে পুষ্টি গুণ আছে যা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারি শুনেছি। তাই আমি একটি আমবাগান কেটে সেখানে ড্রাগনের চাষ শুরু করি। সে সময় একবিঘা জমি তৈরি করতে তার ৩ থেকে ৪ল¶ টাকা খরচ হয়েছে । এখন অনেক কম টাকায় বাগান তৈরি করা যাচ্ছে । বর্তমানে তার ১৫ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ রয়েছে বলে জানান।
এইচ এস সি পড়ুয়া ইমরান হোসেন নামের এক ছাত্র জানান,করোনা কালীন সময়ে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় গ্রামের ছাত্ররা লেখাপড়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভাবে ড্রাগনের চাষ শুরু করেছে। যারা বাগান করতে পারেনি তারা তাদেরই কৃষি উদ্যাক্তা বন্ধুর জমিতে কাজ করছে। এখন আর এই গ্রামের কোন ছাত্র বসে নেই।

নতুন একজন কৃষক সোহাগ সরকার বলেন, আজমপুর ইউনিয়নের গৌরিনাথপুর গ্রামে ১০০বিঘার মত বাগান আছে। তিনি জানান সে প্রথম বছরেই ড্রাগন চাষ করে সফলতা লাভ করেছে। তার ৭বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ রয়েছে। প্রথম দুই বিঘা ৫ কাঠা জমিতে ৫ল¶ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এখন এক বিঘা জমি তৈরি করতে মাত্র ১ল¶ ২০ হাজার লাগে। তিনি অরো বলেন ২ বিঘা বাগান থেকে ইতি মধ্যে ৩ল¶ টাকার ফল বিক্রি হয়েছে। বর্তমান বাগানে এখন ৪ল¶ টাকার মত ফল আছে। এভাবে এই বছরে এই বাগান থেকে তিন চার বার ফল বিক্রি করতে পারবে। শুধু ড্রাগন ফল বেচে এই গ্রামে ২ কোটি টাকা আসবে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে বর্তমান বাজার ব্যবস্থার দিকে সরকার একটু নজর দিলে তারা আরো বেশি লাভবান হবেন ও আরো বেশি বাগান তৈরি হবে বলে তার ধারণা।

আজমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার খান জানান, আমার ইউনিয়নের গৌরিনাথপুর গ্রামে ড্রাগন চাষ সবচেয়ে বেশি। এর আগে মাত্র দুই জন চাষ করতো তারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে। এখন গ্রামটি ড্রাগন গ্রাম নামেই পরিচিতি লাভ করেছে। তার মতে সরকার বাজার ব্যবস্থার উপর মনিটারিং করলে কৃষকরা বেশি উপকৃত হবে। এবং তারা আরো বেশি লাভবান হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসান আলী জানান, এ উপজেলাতে ৫০ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ হয়েছে। কিন্তু একটি গ্রামেই সব চেয়ে বেশি চাষ। আমি প্রতিনিয়ত ওই গ্রামের কৃষদের খোজ খবর নিই এবং তাদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। ড্রাগন ফলে জিংক ও মিনারেল সহ পুষ্টি গুন বেশি । এই ফলটি করোনা রুগিদের জন্য একটি মহা ওষুধ। তিনি বলেন গত বছরের চেয়ে এ বছর দাম একটু কম তার পরও কৃষকরা লাভবান হবে বলে তিনি মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *