পন্ডিত জয় গোপাল তর্কালঙ্কারের বসতভিটা নিশ্চিহ্নের পথে দ্বিতীয় কলকাতা হিসেবে খ্যাত মহেশপুরের বজরাপুর গ্রাম

Spread the love
  • 21
    Shares

শামীম খান : ঝিনাইদহের মহেশপুরের বজরাপুর গ্রাম দ্বিতীয় কলকাতা হিসেবে খ্যাত, পন্ডিত জয় গোপাল তর্কালঙ্কারের বসতভিটা সহ জমিদারদের শেষ চিহৃ টুকু নিশ্চিহৃ হয়ে যাচ্ছে। কালের সাক্ষী হিসেবে এখনও যে স্থাপনাগুলো আছে তা ইতিহাসেরই অংশ।   

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় এসবিকে ইউনিয়নের বজরাপুর গ্রামটি উপজেলার বার জমিদারের ষোল আনা অংশের একানা জমিদারী অংশ ছিল এই গ্রামে। জমিদারদের পূর্ব পুরুষ এক বিখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন তাঁর নাম জয়গোপাল তর্কালঙ্কার। তিনি ১৭৭৫ সালে জন্মগ্রহন করেন । তাঁর পিতার নাম কেবলরাম তর্কাপঞ্চানন। তিনি ছিলেন নাটোর রাজ্যের সভাপন্ডিত। তৎসময়ে জয়গোপাল তর্কালঙ্কার সূধী সমাজে পরিচিত ছিলেন একজন সংস্কৃত পন্ডিত হিসেবে। পিতার সাথে জয় গোপাল কাশীতে বসবাস করতেন। কাশী ছিল সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্রস্থল। কাশী থেকে তিনি সংস্কৃত বিষয়ে গভীর জ্ঞান লাভ করে পন্ডিত নামে পরিচত হন। পাদরী কেরীর অধীনে জয়গোপাল চাকুরী নেন ১৮০৫ সালে। ৮ বছর এখানে তিনি চাকুরী করেন। তৎপর ১৮১৩ সালে কলকাতার সংস্কৃত কলেজে যোগদান করেন সংস্কৃত ভাষায় অধ্যাপক হিসেবে এবং এই পদে চাকুরী করেন ১৬ বছর। দেশ বরেন্য অনেক কৃতি সন্তান তাঁর ছাত্র ছিলেন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছাত্ররা ছিলেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর,তারাশঙ্কর, মদনমোহান, শ্রীচন্দ্র প্রমুখ। পান্ডিত্যের গুনে তিনি সে সময়কার কলকাতা সুপ্রীম  কোর্টের জজ হতে পেরেছিলেন। পাদরী ,কেরী, মার্শম্যান এর প্রচেষ্টায় বাংলা মুদ্রনযন্ত্র স্থাপিত হয় শ্রীরামপুরে। জয়গোপাল তর্কালঙ্কার কৃত্তিবাসের রামায়ন ও কাশীদাসের মহাভারত এই দুটি মহা কাব্য পরিবর্ধন ও পরিশোধন করে নতুন আঙ্গীকে প্রকাশ করেন শ্রীরামপুরের প্রেস থেকে। এতে পাদরী ও কেরীরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেন। বর্তমানে বাংলা ভাষায় অনুবাদিত যে রামায়ন ও মহাভারত প্রচলিত আছে তা তাঁরই সংশোধিত সংস্করন।

মেধাশক্তির গুনে তিনি ফারসি ভাষা করায়ত্ব করতে পেরেছিলেন। কঠোর পরিশ্রম করে তিনি সংকলন করেন ফারসি অভিধান নামে একখানা কোষ গ্রন্থ। বঙ্গানুবাদ কাজেও তাঁর দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। সেই সাথে রচনা করে গেছেন অনেক কবিতা। বিম্বমঙ্গলকৃত হরিভক্তিমূলক কবিতা বঙ্গানুবাদ করে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন এবং ষড় ঋতু বর্ণনামূলক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কবিতা রচনা করে যথেষ্ট খ্যাতি লাভ করেন। এ খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও যশ¯^ী পন্ডিত মৃত্যুবরন করেন ১৮৪৪ সালে কলকাতায়। তৎকালীন সময়ে বজরাপুর গ্রামে শিক্ষিতের পরিমান বেশী ছিল এবং অধিকাংশ পরিবরের লোকজন কলকাতায় বসবাস করতো বিধায় সে সময় এই গ্রামকে দ্বিতীয় কলকাতা বলা হতো। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এক সময় মহেশপুর বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে বজরাপুর গ্রামে তাঁর শিক্ষকের বসতভিটা দর্শন করে গিয়েছিল।  

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x