বড় ভাইয়ের দোকান জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে আপন ছোট ভাই

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ

আপন বড় ভাইয়ের দুইটি দোকান ঘড় ভাড়া নেয়ার কথা বলে ছোট ভাই এখন নিজেই সেই ঘরের মালিকানা দাবী করে জোরপূর্বক দখল করে আছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সূর্যমণি বাজারে। উক্ত ঘরের মালিক বড় ভাই আইয়ুব আলি ব্যাপারি সাংবাদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যে, তিনি সরল বিশ্বাসে ছোট ভাই ইউসুব আলি ব্যাপারীকে তার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দুইটি দোকান ঘড় ভাড়া দেন। ছোট ভাই ইউসুব আলি ব্যাপারি কিছুদিন বড় ভাইকে ভাড়া দেয়ার পরে বিশ্বাস ঘাতকতা করে কিছুদিন পরে সেই ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দেন এবং নিজেকে ওই ঘড় দুইটির মালিকানা দাবী করেন।

এ ব্যাপারে সরেজমিনে ঘটনা তদন্ত করার জন্য মাদারীপুর থেকে কয়েকজন সাংবাদিক বিষয়টি সত্যতা যাচাই করার জন্য ঘটস্থলে জান এবং বাজারে গিয়ে স্থানীয় বেস কয়েকজনের কাছ থেকে সাক্ষাৎকার গ্রহন করেন। সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকরা আইয়ুব আলি ব্যাপারীর অভিযোগ সত্য বলে প্রাথমিকভাবে প্রমান পায়।

এসময় অসহায় আইয়ুব আলি ব্যাপারী তার দোকান ঘরের সামনে এসে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। এবং দোকান ঘরের সমস্ত কাগজপত্র সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেন। তার কাগজপত্রের মধ্যে চুক্তিনামা রয়েছে। চুক্তিনামায় ইউসুব আলি ব্যাপারী সাক্ষীদের উপস্থিতিতে এই মর্মে অঙ্গিকার করেন যে বর্ণীত ৫টি ঘরের ব্যাপারে কোন দাবী দাওয়া করবেন না এবং দাবী করলে তা সর্বচ্চ আইন-আদালতে অগ্রাহ্য হবে বলে জানান।

কিন্তু ছোট ভাই ইউসুব আলি এতকিছুর পরেও বড় ভাইয়ের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ঘড় ভাড়ার কথা বলে ঘড় দুইটি বেদখল করে নিজের বলে দাবী করে আসছেন।

কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আরও দেখা যায় যে, ঘরগুলোর বিষয়ে তার নামে কালকিনি উপজেলার সহকারি কমিশনারের ভুমি অফিস থেকে ২০২০ জনের ডিসিআর (দাখিলা) কাটা আছে।

ঘড় দুইটি জোরপূর্বক দখলে রাখার পরিপ্রেক্ষিতে ঘরের আইয়ুব আলি মাদারীপুর জেলা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার রায়ে ইউসুব আলি ব্যাপারীকে দোকানপাট দুইটিতে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং এই ব্যাপারে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ অবধি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করে নাই। ফলে ইউসুব আলি ব্যাপারি এবং তার ছেলেরা দোকানঘর দুটি নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছে।

এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা ইউসুব আলি ব্যাপারীর সাথে সাক্ষাৎ করতে চাইলে তিনি নিজে না এসে তার বড় ছেলে আলি আজমকে পাঠান।এসময় আলি আজম ঐ দোকানঘর দুটির ২০২০ সনের একটি ডিসিআর দেখান। কিন্তু ডিসিআরের চৌহতি দেয়া হয়নি।ফলে ডিসিআরটি সত্যতার ব্যাপারে সাংবাদিকরা সন্দেহ পোষণ করেন। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা ডিসিআরটি ভুয়া বলে সাংবাদিকদের জানান।অসহায় ইউসুব আলি ব্যাপারি দোকানঘর দুটি থেকে বেদখল হওয়া আইয়ুব আলি ব্যাপারী কেঁদে কেঁদে সবার কাছে এ বিচার দাবী করছেন।এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সাংবাদিকদের মাধ্যমে মৌখিক আবেদন জানান।
Attachments area

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x