মহেশপুরে অবৈধ ইটভাটায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে মানুষ

Spread the love
  • 20
    Shares

 শামীম খানঃ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটা গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাস্তার কোল ঘেষে গড়ে তোলা ইট ভাটার কারনে বর্ষায় কাঁদামাটি আর গীষ্মে ধুলিকনায় নাস্তা নাবুদ হতে হয় পথচারিদের। এতে বিপর্যন্ত হয়ে উঠছে জনজীবন। আর ধুলাজনিক রোগব্যাধির প্রকোপ অস্বাভাবিকভাবে দিনদিন বেড়েছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। যদিও অবকাঠামো এবং নির্মান কাজে ইট একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বস্তু। তবে সব কিছুর মুলে রয়েছে নিজে সুস্থ্য থাকা এবং অপরকে সুস্থ্য রাখা। এসব থেকে প্রতিকার পেতে ইটভাটা মালিক ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগিরা।

অভিযোগে জানা যায়, ইট প্রস্তুত এবং ভাটা স্থাপনা (নিয়ন্ত্রন) আইন ২০১৩-এর ৮ ধারা অনুযায়ি, লোকালয় ও কৃষি জমিতে ইটভাটা তৈরি দন্ডনিয় অপরাধ। কিন্তু কর্মকর্তাদের উদাসিনতা এবং ইট ভাটা মালিকেরা স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালি ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আইনকে অমান্য করে ইটভাটা গড়ে তোলেন। যে কারনে অভিযোগ উঠলেও বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যান তারা।

মহেশপুরে  অবৈধ ইটভাটায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে মানুষ

সরেজমিন দেখা গেছে,মহেশপুরের অধিকাংশ ইটভাটাগুলোই গড়ে উঠেছে আবাদযোগ্য জমি এবং সড়ক ও মহাসড়কের কোল ঘেষে। ভাটাগুলোতে ইট তৈরির জন্য কেটে আনা মাটি প্রতিদিন রাস্তার উপর পড়ছে। আর এসব কাদামাটি পড়ে আলগা ধুলায় জন্ম হচ্ছে। আবার শীতের শীতেও বৃষ্টিতেই রাস্তার উপর পিচ্ছিল কাদার সৃষ্টি হয়ে দূর্ঘটনা ঘটছে।

যদিও কাদা থেকে রক্ষা পেতে ইটভাটা মালিকেরা ইটের গুড়া ছিটিয়ে সাময়িক সমাধান করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরবর্তিতে রোদে শুকিয়ে সেগুলো ধুলার সৃষ্টি করে।    

মহেশপুরের গুড়দহের আব্দুর রাজ্জাক জানান, পানি আর রাস্তা তৈরির জন্য খোড়াখুড়ির সময় শহরের পরিবেশ যেমন দূষিত হয়, ঠিক তেমনি রাস্তার ধারে গড়ে ওঠা ইটভাটার ভারি ধুলায় গ্রামাঞ্চলের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। উভয় ক্ষেত্রে যেন বায়ু দুষিত করার অঘোষিত প্রতিযোগিতা চলছে। এমতাবস্থায় বায়ু দুষনের প্রতিরোধ অতিব জরুরি হয়ে পড়েছে।

মহেশপুর হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ নাসির উদ্দিন বলেন, বায়ু দুষনের কারনে অন্যান্য সময়ের চেয়ে গ্রীস্মের সময়ে বেশি পরিমানে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয় মানুষ। এছাড়াও ধুলিবালির কারনে এজমা, শ্বাসকষ্ট, এলার্জি, ফুসফুসে রোগসহ চর্ম রোগ সৃষ্টি যায়।

মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু তালহা বলেন, যেখানে সেখানে ইটভাটা তৈরির কারনে শুধু রোগই সৃষ্টি হচ্ছে না,কৃষি জমিও কমে যাচ্ছে। ইটভাটার আশপাশের জমি গুলোর ফসলেরও ক্ষতি হচ্ছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x