মহেশপুরে খেলার মাঠ তৈরী করতে কৃষকের পেয়ারা বাগান ও ড্রাগনের ক্ষেত কেটে সাবার

শামীম খানঃ

বাগানের মধ্যে খেলার মাঠ তৈরী করতে কৃষকের পেয়ারা বাগান ও ড্রাগনের ক্ষেত কেটে সাবার করে দিয়েছে স্থানীয় সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মাঠে। এ ঘটনায় থানায় তিনটি অভিযোগ জমা পরেছে বলে থানা সুত্রে জানা গেছে।

এলাকাবাসী জানান, মহেশপুর মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক ও রামচন্দ্রপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন আনু স্যারের দুই বিঘা জমি একই গ্রামের হাসান আলী র্দীঘ দিন লিজ নিয়ে চাষাবাদ করে আসছিলো। গত দু’ তিন মাস পুর্বে হাসান আলী জমিটি ১০ বছরের জন্য লিজ নিয়ে পেয়ারা বাগান ও ড্রাগনের আবাদ শুরু করে।

এলাকাবাসী আরো জানান, গ্রামের সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা গত মঙ্গলবার সকালে জমিতে খেলার মাঠ তৈরী করা হবে বলে মাঠের পেয়ারা বাগান ও ড্রাগনের ক্ষেত কেটে সাবার করে দিয়েছে।

রামচন্দ্রপুর গ্রামের জাহিদ হোসেন মিলু জানান, প্রায় ৭/৮ বছর আমরা জমিটি লিজ নিয়ে পেয়ারা বাগান ও ড্রাগনের চাষ শুরু করেছি। কিন্তু এলাকার ইব্রাহিম ওরফে পেন্টু,নাজমুল ইসলাম,ছাত্রলীগ নেতা রানা,তরিকুল ইসলাম,আশিকুর রহমান আশিক,মোস্তফা ও বাবু এলাকা থেকে লোকজন নিয়ে আমাদের জমিতে লাগানো পেয়ারা বাগান ও ড্রাগনের ক্ষেত কেটে সাবার করে দিয়েছে।

একই গ্রামের হাসান আলী জানান, বেশ কিছুদিন পুর্বে রামচন্দ্রপুর গ্রামের সাবেক শিক্ষক আনোয়ার হোসেন আনু মারা যাওয়ার পর তার বড় ছেলে মিলু মাষ্টারের কাছ থেকে তাদের দুই বিঘা জমিটি আমরা ১০ বছরের জন্য লিজ নিয়েছি। কিন্তু এলাকার কিছু ব্যক্তি সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে আমাদের জমিতে লাগানো পেয়ারা বাগান,ড্রাগনের ক্ষেত ও নার্সারী মধ্যের গাছ গুলো কেটে সাবার করে দিয়েছে।

মহেশপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, রামচন্দ্রপুর গ্রামে কৃষকের পেয়ারা বাগান ও ড্রাগনের ক্ষেত কেটে দেওয়া হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ছিলাম। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি ভালো আছে। তবে বেশ কিছু গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। পেয়ারা বাগান ও ড্রাগনের ক্ষেত কেটে দেওয়ার ঘটনায় থানায় তিনটি অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থরা। তিনি আরো জানান,তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x