মহেশপুরে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগস্ত হাজারো মানুষ এখনও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে

শামীম খানঃ

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে লণ্ড ভণ্ড হয়ে যাওয়া ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার হাজারো মানুষ এখনও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। লাখো মানুষের ঘরে নেই কেই খাবার। অনেকে সব হারিয়ে এক বেলা খেয়ে দিনও কাটাচ্ছে। সরকার দলীয় নেতা ও সরকারী কর্মকর্তারা এখনো ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে লণ্ড ভণ্ড হয়ে যাওয়া পরিবার গুলোকে ১০ দিন পার হলেও কোন সাহায্যে এগিয়ে আসেনি বলে জানান অসহায় পরিবার গুলো।

গত বুধবার রাতের ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবের হাত থেকে অনেকে নিজেদের বসত ঘর গুলোও রক্ষা করতে পারেনি। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার প্রায় ৩০ হাজার কাচা ও আধাপাকা ঘর-বাড়ী ভেঙ্গে পড়েছে। সেই সাথে ক্ষেতের ধান কিছুটা রক্ষা করতে পারলেও রক্ষা করতে পারেনি কলা বাগান,পেপে বাগান,পানের বরজ,আম-কাঠালের বাগান,মরিজ ক্ষেত,তিল ও মুগ ক্ষেত গুলো। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে মহেশপুর উপজেলায় প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশী সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।

মহেশপুরে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগস্ত হাজারো মানুষ এখনও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে

এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে লণ্ড ভণ্ড হয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার গুলো এখনও রাস্তায় আর গাছে গাছে ঝুলছে। আম্পানের তাণ্ডবের ১০ দিন পার হলেও এখনও উপজেলার ৪০টি গ্রাম রয়েছে অন্ধকারে।

পরিবার গুলোর অভিযোগ আমরা আম্পানের তাণ্ডবে সবকিছু হারিয়ে আজ খোলা আকাশের নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে। এলাকার ইউপি সদস্যরা তালিকা তৈরী করছে কিন্তু আমাদের ঘরের খাবার দেবে কে?

জলুলী গ্রামের আম্বিয়া খাতুন জানান, ঝড়ের ১০দিন পার হলেও কোন নেতা বা সরকারী কর্তকর্তার দেখা পাওয়া যায়নি। এখন এলাকার মানুষ গুলো থাকবে কোথায় আর খাবে কি কে দেখবে আমাদের।

পৌর এলাকার দোলন কণ্ডু,টোটন কুণ্ডু জানান, এলাকার প্রায় ৬৫টি পানের বরজ ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কবলে পড়ে একেবারে মাটির সাথে মিসে গেছে। এখন পানের বজর গুলো ঠিক করতে যে টাকার প্রয়োজন তা আমাদের কাছে নেই।

যাবদপুর ইউপি সদস্য হাজেরা খাতুন জানান, আমরা ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরী করে পরিষদে জমা দিয়েছি। তবে আমরা তো ক্ষতি গ্রস্ত পরিবার গুলোকে সেই ভাবে কোন খাবার দিতে পারেনি।

মহেশপুরে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগস্ত হাজারো মানুষ এখনও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে

পান্তাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে আমার ইউনিয়নে ৫২৯টি পরিবার সব থেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা সকলেরই তালিকা তৈরী করেছি। অসহায় পরিবার গুলোকে পরিষদ থেকে খাবারও দিচ্ছি।

বাঁশবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, আম্পানের তাণ্ডবে আমার ইউনিয়নে ১০১১টি পরিবারের বাড়ী ঘর ভেঙ্গে পড়েছে। তবে আমি কিছু কিছু অসহায় পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে যাচ্ছি। যাতে তাদের কোন অসুবিধা না হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ হাসান আলী জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে কলা বাগান,পেপে বাগান,পানের বরজ,আম-কাঠালের বাগান,মরিজ ক্ষেত,তিল ও মুগ ক্ষেত গুলো  সব থেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে এ আবাদ গুলো ছিলো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাশ্বতী শীল জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে ক্ষতি গ্রক্ষিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে খুব তাড়াতারী তাদের ঘর-বাড়ী গুলো আমরা মেরামতের ব্যবস্থা করে দেবো। আর ফসলের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ময়জদ্দীন হামিদ জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা এখনও পরিষদে আসেনি। আসলে পরে প্রতিটা পরিবারকে আমরা সাহায্য করবো।

ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফিকুল আজম খান চঞ্চল জানন,মহেশপুরের মানুষ জন্মের পর থেকে এতো বড় ঝড়েরর তাণ্ডব দেখেনি। যে ঝড়ে বাড়ীর ঘর  পর্যন্ত উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে। আমি সব খানেই যোগাযোগ করেছি প্রতিটা পরিবারকে তাদের ঘর তৈরীর জন্য। আর যাদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে তাদের দিকটাও ভাবা হচ্ছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x