শেখ হাসিনার সরকারে আমলে কেউ গৃহহীন থাকবে না, নাহিম রাজ্জাক এমপি

শেখ হাসিনার সরকারে আমলে কেউ গৃহহীন থাকবে না, নাহিম রাজ্জাক এমপি

রাজনীতি
ডামুড্যা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি

শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শণ পরবর্তী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাহিম রাজ্জাক এমপি । মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন ডামুড্যা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ফজলে এলাহি ।

নাহিম রাজ্জাক এমপি বলেন শেখ হাসিনার বাংলাদেশে আর কেউই গৃহহীন থাকবেনা। জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুখে যা বলেন কাজে তা পরিনত করেন। তিনিই পৃথিবীর মধ্যে একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক যিনি এক দিনে সারাদেশের ৬৬ হাজার ১৮৯টি ঘর একযোগে বিতরণ করেছেন। এটা জাতির জন্যা বলেই তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। পৃথিবীতে এমন কোন নজির আছে বলে আমার মনে হয় নাই,একমাত্র শেখ হাসিনার সরকার দ্বারাই সম্ভব হয়েছে, তিনি ১০ জুন বৃহস্পতিবার তার নির্বাচনী এলাকা ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের চরনারায়নপুরে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এলাকা পরিদর্শন কালে এসব কথা বলেন।

নাহিম রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ সরকার সারাদেশে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আধা-পাকা ঘর দিয়েছে। প্রথম দফায় ৬৬ হাজারের বেশি মানুষকে ঘর দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় আগামী মাসে আরো এক লক্ষ ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। এসব বাড়িঘর ছাড়াও ৩৬টি উপজেলায় ৭৪৩টি ব্যারাক নির্মাণের মাধ্যমে আরও ৩ হাজার ৭১৫টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। তিনি বলেন, মুজিব বর্ষের উপহার হিসেবে সব মিলিয়ে ৬৯ হাজার ৯০৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর তৈরি করে দিচ্ছে সরকার। আজ আমরা পূর্ব ডামুড্যা ১৪ প্রথম পযার্য়ে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে ১৪ টি ঘর বিতরণ করছি। আরও ২২ ঘরের কাজ চলমান রয়েছে।

সরকারের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে জেলার স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে ভূমিহীন এবং গৃহহীন ব্যক্তিদের একটা তালিকা তৈরি করা হয়। যার সাথে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ সকল সরকারি-বেসরকারি দপ্তর-সংস্থা, জনপ্রতিনিধি সবাই সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের মাধ্যমে তালিকা করা হয়। তার ভিত্তিতে বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলার ৪৯২টি উপজেলায় ভূমিহীন-গৃহহীন যে পরিবারের সংখ্যা সেটা আমরা পেয়েছি তা হলো ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৩৬১ জন।

আমরা একটা নীতিমালা করেছি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে। সেই নীতিমালায় বলা আছে বিধবা, প্রতিবন্ধী, অসহায়, বয়স্ক তাদের অগ্রাধিকার দিবে। আবার এই তালিকা থেকে যারা অতি-দরিদ্র তাদের জন্য আগে ঘরটা করে দেয়া হয়েছে। দুই রুমের আধা-পাকা ঘরের প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা।

মালামাল পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত ৪ হাজার টাকা দেয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায়। অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে তিনটা স্থান থেকে। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছ-গ্রাম প্রকল্প থেকে।

এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন, ডামুড্যা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাহমিনা চৌধুরী, ডামুড্যা উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য ইদ্রিস মাল,ডামুড্যা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি চৌধুরী জাহাঙ্গীর আলম,পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ডামুড্যা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ লিটন হাওলাদার, পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসাইন মাল,সাধারন সম্পাদক মাহাবুব মিজি, ডামুড্যা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম.মিজানুর রহমান, ডামুড্যা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক কামরুল হাসান মন্টি মাঝি, ডামুড্যা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ মাহাবুব আলম, ডামুড্যা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এস.এম হেলাল উদ্দীন, আওয়ামীলীগ, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের জন্য কর্মসংস্থান ও তাদের জীবিকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানন সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক। তিনি বলেন, কৃষি জমি যাতে প্রকৃত ভূমিহীনরাই ভোগ করতে পারে সে বিষয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে আমি বলেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *