স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঘুম ভাঙ্গবে কবে মহেশপুরে আবারও ভূল অপারেশনে গৃহবধুর মৃত্যু

Spread the love
  • 489
    Shares

শামীম খানঃ
আর কত ভূল অপারেশনে গৃহবধুর করুন মৃত্যু হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঘুম ভাঙ্গবে? একের পর এক ঝিনাইদহের মহেশপুরে ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজিয়ে উঠা বিভিন্ন ক্লিনিকে ডাক্তারের ভূল অপারেশনের কারনে গৃহবধুদের মৃত্যু বরণ করতে হচ্ছে অকালে।

মহেশপুরের ভৈরবা বাজারের সজীব প্রাইভেট ক্লিনিকে এ্যাপেন্ডিসাইড অপারেশনের কয়েক দিন পর গত বৃহস্পতিবার সকালে তিশা খাতুন নামের এক নববধুর করুন মৃত্যু হয়েছে। তিশা খাতুনের বাবা জলুলী গ্রামের জয়নাল মিয়া জানান, এক সপ্তাহ আগে আমি আমার মেয়ে তিশা খাতুর (১৫) এ্যাপেন্ডিসইড অপারেশনের জন্য ভৈরবা বাজারের সজীব প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করি। ঐ দিন রাতে সোহেল রানা নামের এক ডাক্তার আমার মেয়ের অপারেশন করেন। অপারেশনের পরের দিন আমার মেয়ের পেটে প্রচন্ড ব্যাথা বমি দেখা দেয়। এর বাড়ীতে নিয়ে আসার পর আমার মেয়ের পেট ফুলে যায়। তিনি আরো জানান, আমার মেয়ের ভূল অপারেশনের কারনেই মৃত্যু হয়েছে। এদিকে গৃহবধূ তিশার মৃত্যুতে এলাকাবাসী ক্লিনিক ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

ইতি পুর্বে ভৈরবা বাজারের জননী ক্লিনিতে হাতুড়ে ডাক্তারের ভূল অপারেশনের কারনে ভৈরবা, পাঁচপোতা, গাড়াপোতা ভোলাডাঙ্গা,বাগানমাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় এক মাসের ব্যবধানে ১৩ জন গৃহবধুর করুন মৃত্যু হয়।এত মৃত্যুর পরও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘুমিয়ে রয়েছে কিভাবে?
বাশঁবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, আমার এলাকায় ডাক্তারের ভূল অপারেশনের কারনে এক মাসের মধ্যে মারা গেলো ১৩ জন গৃহবধু। এখন তাদের রেখে যাওয়া বাচ্চাদের লালন পালন করতে পরিবার গুলোর কি কষ্ট হচ্ছে বাড়ী গুলোতে না গেলে বোঝা যাবেনা। অথচ যারা ক্লিনিক গুলোর অনুমোদন দেন তারা কোন দিনের জন্যও একবারও ক্লিনিক গুলো দেখতেই আসেননা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদাশিনতার কারনে মহেশপুর উপজেলার সীমান্ত বর্তী ভৈরবা বাজার,জিন্নাহনগর বাজার,নেপার মোড়,সেজিয়ার বাজার,গুড়দাহ বাজার,সস্তার বাজার,যাদবপুর বাজার,পুড়াপাড়া বাজার,জলিলপুর বাজারসহ মহেশপুরে প্রায় ১৪টি ক্লিনিক রয়েছে।
যেখানে ক্লিনিকের প্রথম শর্তই হচ্ছে ১০টি বেডের জন্য একজন এমবিবিএস ডাক্তার,৩জন ডিপ্লামা নার্স,অভিজ্ঞ আয়া বাধ্যতা মুলক থাকতেই হবে। কিন্তু তার কোনটাই নেই অধিকাংশো ক্লিনিক গুলোতে।

মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ নাসির উদ্দিন জানান,আমি শুনেছি ভৈরবার সজীব প্রাইভেট ক্লিনিকে এ্যাপেন্ডিসাইড অপারেশনের কয়েক দিন পর এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। মুলত মহেশপুরের সব ক্লিনিকই দেখভাল করেন জেলা সিভিলর্সাজন অফিস। মাঝে মধ্যে আমাকে বলেন পরিদর্শক করে রিপোট জমা দেওয়ার জন্য। আমি পরিদর্শন করে রিপোটও জমা দিয়েছি। তিনি আরো জানান, কোন ক্লিনিকই ডাক্তার নেই। আর ডাক্তার না থাকার কারনেই এই মৃত্যুর ঘটনা গুলো ঘটে বেশী। আমি পরিদর্শনে গেলেই ক্লিনিক মালিকদের বলে আসি ভালো ডাক্তার,ভালো নার্স রাখার জন্য। কিন্তু কোন ক্লিনিক মালিকই আমার কথা শোনে না।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

x